আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নতির দাবীতে আমতলী সচেতন নাগরিকের উদ্যোগে গণ অনশন করছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় এ গণ অনশন শুরু হয়। শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মত সন্ধ্যায় গণ অনশন শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় দিন পেরিয়ে গেলেও সরকারী কোন দায়িত্বরত কর্মকর্তা গণ অনশনে দাবীর সমর্থণে সংহতি প্রকাশ করেনি। এতে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। জানাগেছে, ঢাকা-কুয়াকাটা ২৯৩.৭ কিলোমিটার মহাসড়ক। আশির দশক থেকে এ সড়কে খুড়িয়ে খুড়িয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হয়। ওই সঙ্গে ঢাকা-ভাঙ্গা ৮৮.৭ কিলোমিটার সড়ক হাইওয়ে এক্সপেসে উন্নীত করে সরকার। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পরে কয়েকগুন বেড়ে গেছে এ সড়কে যানবাহন চলাচল। কিন্তু ভাঙ্গা থেকে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা পর্যন্ত ২০৫ কিলোমিটার ২৪ ফুট প্রস্ত আগের সড়কে যানবাহন চলাচল করছে। এতো যানবাহন চলাচলের চাপ সামলাতে প্রস্তুত নয় সড়কটি। ফলে ওই সড়কে প্রতিবছর হাজার হাজার দুর্ঘটনায় শত শত প্রাণহানী ঘটছে। ২০১৮ সালের অক্টোবরে ভাঙ্গা-বরিশাল-সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেন প্রকল্প একনেকে পাস হয়। কিন্তু ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও ওই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। ওই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান। এ বছর জানুয়ারী থেকে এপ্রিল পযন্ত এ সড়কের পটুয়াখালী-কুয়াকাটার অংশের আমতলী এলাকায় শতাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন মানুষ নিহত হয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল এ সড়কের আমতলী ফায়ার সার্ভিস এলাকায় ট্রাকের চাপায় মিরাজুল ইসলাম শাওন ও বেল্লাল মুসুল্লী নামের দুই অটো রিক্সার যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ দুই যাত্রী নিহত হওয়ার পরে নরেচরে বসেছেন আমতলী উপজেলার সচেতন নাগরিক। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী একে স্কুল পয়েন্টের গণ অনশন কর্মসুচী শুরু করে। শুক্রবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দিনের কর্মসুচী শেষ হয়। কিন্তু দুই দিন গণ অনশন কর্মসুচী পালন করলেও সরকার ও প্রশাসনের পক্ষে কেউ দাবীর পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেনি। এতে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। এ গণ অনশনে সুশীল সমাজের নাগরিক, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ অংশ গ্রহন করেছেন। সচেতন নাগরিকদের দাবী সরকারের পক্ষ থেকে দাবী আদায়ে স্বপক্ষে ঘোষনা না আসা পর্যন্ত কর্মসুচী অব্যহত রাখা হবে। প্রধান শিক্ষক একেএম জিল্লুর রহমান ও নাশির মাহমুদ বলেন, আর কত প্রাণ গেলে সরকার এ সড়টি চার লেনে উন্নীত করবেন। প্রতিবছর শতশত মায়ের বুক খালি হচ্ছে এ সড়কে কিন্তু কেউ সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণে পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। দ্রুত সড়কটি চার লেনে উন্নীত করে প্রাণহানী থেকে রক্ষার দাবী জানান তারা। বরগুনা জেলা যুবদল তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক আসাদুজ্জামান মোমেন আকন বলেন, গত ১৪ এ্রপ্রিল ট্রাকের চাপায় দুটি তাজা প্রাণ সড়কে ঝড়ে গেছে। এরপর থেকেই আমতলীর সচেতন নাগরিক সিধান্ত নিয়েছেন ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেন উন্নীতকরণের দাবীতে গণ অনশন কর্মসুচী পালনের। তিনি আরো বলেন, গত দুইদিন ধরে গণ অনশণ কর্মসুচী পালন করে আসছি কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কেউ দাবী আদায়ে আশ্বাস দেয়নি। দাবী আদায়ের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসুচী অব্যহত থাকবে। পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জামিল আক্তার লিমন বলেন, ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের দাবীতে আমতলীতে গণ অনশনের বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হবে। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক চারে লেন উন্নীতের দাবীতে আমতলী উপজেলা সচেতন নাগরিকের উদ্যোগে গণ অনশন কর্মসুচী পালন করছে। এ বিষয়টি প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তিনি আরো বলেন, আগামীকাল গণ অনশনকারীদের পক্ষে সংগতি প্রকাশ করা হবে। বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ বলেন, ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতের দাবী দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের। পর্যটন এলাকা কুয়াকাটার যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি দ্রুত চার লেনে উন্নীত করতে আমতলীর নাগরিকরা গণ অনশণ করছে। তিনি আরো বলেন, এ সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণের বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply